রবিবার; ১৬ জুন, ২০২৪ খ্রি. Dashboard

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন দিন
সর্বশেষ :
হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, নদীপাড়ে আতঙ্ক কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩২টি সিসি ক্যামেরা বসালো পুলিশ ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারেরা কুড়িগ্রামে বিভিন্ন পশুর হাটে জেলা পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে সরকারি বিতরণকৃত চাল জব্দ
16 December

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঋণ থাকলে কোরবানির বিধান কী?

প্রকাশিত: সোমবার; ১০ জুন, ২০২৪ খ্রি. - ১০:৩৯ পি.এম. | দেখেছেন: ৩৯ জন।

ঋণ থাকলে কোরবানির বিধান কী?

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন- ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন’ (সুরা কাউসার: ২)

কোরবানি শব্দের অর্থ ত্যাগ, আত্মোৎসর্গ নৈকট্য লাভ এবং জবাই করা ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় কোরবানির অর্থ হলো, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু জবাই করা। 

যার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয় তার জন্য কোরবানি করার চেয়ে ঋণ পরিশোধ করাই উত্তম। কেননা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি কোরবানির দিনগুলোতে ঋণগ্রস্ত থাকে, যা পরিশোধ করে দিলে তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ বাকি থাকে না, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। আর যদি ঋণ পরিশোধের পরও কারো কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৬; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/২৯২) তবে ঋণ থাকা অবস্থায় কেউ কোরবানি দিলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে, ‘সকল সম্প্রদায়ের জন্য আমি কোরবানির বিধান দিয়েছি, তিনি (আল্লাহ) তাদের জীবন উপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৪)। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কোরবানি করার বিধান কোরবানির জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা জরুরি। কেউ যদি জিলহজের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় নিসাবের মালিক হন, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে। বছর অতিক্রম হয়েছে কি না; তা দেখার প্রয়োজন নেই। (আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫০৬) তবে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি কোরবানির দিনগুলোতে সাময়িক ঋণগ্রস্ত হন, যা পরিশোধ করে দিলে তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ বাকি না থাকে তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। আর যদি ঋণ আদায় করে দেওয়ার পরও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯২) নেসাব হলো: স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। আর রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। আর অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ। কারও কাছে যদি স্বর্ণ বা রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায় তাহলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। এ ছাড়াও স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, যে জমি বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্র- এসব কিছুই কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য হবে।

আসলে ঋণ পরিশোধ করা ও কোরবানি করা দুটি আলাদা হুকুম। একটির কারণে অন্যটি আটকে থাকবে না‌। ঋণ করে নফল কোরবানি করা উচিত হবে না। কিন্তু কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার পর যদি প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ দিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করা সম্ভব না হয়, তাহলে ঋণ করে হলেও কোরবানি দিতে হবে। পরে তা পরিশোধ করে দেবে। অন্যথায় কোরবানির দিন চলে গেলে পরবর্তীতে একটি মধ্যম মানের বকরির মূল্য কোরবানির নিয়তে সদকা করে দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার: ৪৫৩-৯/৪৫২; দুররুল মুখতার: ৯/৪৬৩)

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন স্বাধীন মুসলিম নর-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। যদি সে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়। (দুররুল মুখতার: ৫/২১৯) স্বর্ণের ক্ষেত্রে নেসাব হলো- সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি আর রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হলো সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। অর্থাৎ কারো মালিকানায় ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ থাকলে অথবা সড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো- মূল্য সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, প্রয়োজনাতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও প্রয়োজনাতিরিক্ত অন্য আসবাবপত্রের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। (মাবসুতে সারাখসি: ১২/৮, রদ্দুল মুহতার: ৬/৬৫)

ওয়াজিব কোরবানি না করা কঠিন গুনাহের কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.) তাদের অভিসম্পাত করেছেন। নবীজি বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়। (মুসনাদ আহমদ: ৮২৭৩; ইবনে মাজাহ: ৩১২৩; হাকেম: ৭৫৬৫-৭৫৬৬)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের আগে ঋণ পরিশোধ করার মাধ্যমে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন