মঙ্গলবার; ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি. Dashboard

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন দিন
সর্বশেষ :
কুড়িগ্রামে সুবিধাবঞ্চিত ৩০০ শিক্ষার্থী পেলো বিনামূল্যে স্কুল পোশাক ও ব্যাগ কুড়িগ্রামের কচাকাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে তেল নিতে গিয়ে গ্রেফতার একাধিক মামলার আসামি কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভেজাল কীটনাশক বিক্রেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হারাগাছ মেট্রো থানার এএসআই পিয়ারুল ইসলাম হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদন্ড

উদ্যোক্তার আকালে খুঁড়িয়ে হাঁটছে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী

প্রকাশিত: সোমবার; ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি. - ০৪:৪৫ পি.এম. | দেখেছেন: ২০ জন।

উদ্যোক্তার আকালে খুঁড়িয়ে হাঁটছে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী

আনোয়ার সাঈদ তিতু,

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

 

 

 

কুড়িগ্রামে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারী না থাকায় পঁয়তাল্লিশ বছরেও জমে উঠতে পারেনি বিসিক শিল্পনগরী। 

অটো রাইসমিলস প্রযুক্তিতে শুধু চালকল নির্ভরশীল এ শিল্পনগরীতে নেমেছে ধস। ঋণ প্রদান কার্যক্রমে অনেক নারী উদ্যোক্তা থাকার পরও সৃষ্টি হয়নি কোনো বিনিয়োগকারী। জানা যায়, ১৯৮১ সালে ২০ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। শুরুতেই কৃষি ভিক্তিক বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে অধিকাংশ প্লটে স্থাপন করা হয় চালকল। প্রযুক্তিনির্ভর অটো রাইস মিল আসায় এই শিল্পনগরীর এনালগ যুগের চালকলগুলো অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। 

বর্তমানে এই শিল্প নগরীর স্থাপিত মিল কারখানাগুলো খুঁড়িয়ে চলছে। শিল্পনগরীতে ৮৮টি উন্নত এবং ৪৫টি অনুন্নত প্লটের মধ্যে বরাদ্দকৃত অনুন্নত ছয়টি প্লট ৪৩তম সভায় বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা প্লটগুলো এখনও কাউকে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এই শিল্পনগরীতে উৎপাদনরত খাদ্য ও খাদ্যজাত শিল্প রয়েছে ২২টি। নির্মাণাধীন একটি এবং বন্ধ আছে দুটি। উৎপাদনরত বস্ত্র ও বস্ত্রজাত শিল্প চারটি, পাট ও পাটজাত শিল্প দুটি, রসায়ন ও ওষুধ শিল্প সাতটি, প্রকৌশল শিল্প রয়েছে একটি। 

এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এক হাজার ১২৪ জনের। এর মধ্যে নারীদের কর্মসংস্থান হয়েছে ৪২৪ জনের। শিল্পনগরীতে স্থাপিত শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদন চলমান থাকলেও শিল্পে তারা তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। এই শিল্প নগরীর অধিকাংশ কারখানা নামমাত্র উৎপাদন করে; যাতে করে তাদের বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল না হয়। অপরদিকে, বিসিক কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয় ও শিল্পনগরী যৌথভাবে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছেন। 

২০২১ সাল থেকে প্রণোদনার আড়াই কোটি টাকা এবং ২০১৫ সাল থেকে ৬০ লাখ টাকার ঋণ আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৬৫ জন উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে তা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। তারা সরকারি সহযোগিতা পেলে ভালো বিনিয়োগকারী হতে পারবেন। নারী উদ্যোক্তা মোছাঃ লাকী আক্তার, মোছাঃ ইয়াছমিন বেগম, মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া, মোছাঃ জুলিয়া জুলকারনাইন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নারী উদ্যোক্তা হয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কাজ করে যাচ্ছি। 

আমাদের উৎপাদিত পণ্য দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা পেলে এই জেলার জন্য ভালো বিনিয়োগকারী হতে পারব। শিল্প নগরীর বিনিয়োগকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, এই শিল্প নগরীতে চাতালের সংখ্যাই বেশি। অটো রাইস মিলস চালু হওয়ায় এই শিল্প নগরীর অনেক চালকল শিল্পে ধস নেমেছে। তারা কোনো রকমে শুধু তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। হাসিনা সরকারের পতনের পরে এই শিল্পনগরীর প্লট বরাদ্দ পাওয়া অনেক বিনিয়োগকারী গা ঢাকা দিয়েছেন। 

তাদের কারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে এই শিল্পনগরী রাস্তাগুলো সংস্কার করে বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে উন্নত শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। বিসিক কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষিপ্রধান জেলা হওয়ায় শিল্পনগরী গড়ে উঠেছে কৃষিভিক্তিক। এই কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় একটি নৌ-বন্দর এবং কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট স্থলবন্দর আছে। 

আমাদের বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন এলাকায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। এখন এই শিল্পনগরীতে বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে ভালো কিছু করা সম্ভব। আমরা ঋণ কার্যক্রমে ভালো উদ্যোক্তা ও ভালো বিনিয়োগকারী তৈরির চেষ্টা করছি।

 

 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন