রমজান শুরুর আগেই কুড়িগ্রামের বাজারে লাগামহীন নিত্যপণ্যের দাম
আনোয়ার সাঈদ তিতু,
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
রমজানের আগেই কুড়িগ্রাম বাজারে লাগামহীন হয়ে উঠেছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। গত দুই দিনে লেবু, রসুন, শসা, গাজর, বেগুন ও আদাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আলুর দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। জেলা শহরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। কুড়িগ্রাম শহরের একাধিক বাজার ঘুরে জানা যায়, রোজার আগেই লেবুর দাম বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।
গত দুই দিনের ব্যবধানে শুকনা মরিচ, রসুন, আদা এবং সয়াবিন তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আলুর স্বল্পমূল্যে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বেড়েছে বেগুন, গাজর ও শসার দাম। পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মোকামে দাম বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে ভোক্তাদের চাপে পড়তে হচ্ছে। রমজানে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোকামগুলোতে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের।
শহরের জিয়া বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই দিনে শুকনা মরিচের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে সোমবার ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলা শহরের জিয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর জানান, রসুন, শুকনা মরিচ, আদা, বেগুন, গাজরসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। দাম বড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়েনি। তারা বেশি দামে কিনছেন বলে বেশি দামেই বিক্রি করছেন।
কিন্তু তাদের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান আগের মতোই আছে। কুড়িগ্রাম জেলা শহরের পৌর বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ ওলিল বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে যে লেবু প্রতি পিস কিনেছিলাম ৫ টাকা, এখন সেই লেবুর পিস হইছে ১২ টাকা। দুই দিন আগে রসুন ৯০ টাকা কেজি কিনছি। এখন কিনছি ১৬০ টাকা। বেগুন ছিল ২৫ টাকা, এখন ৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। শসার কেজি ছিল ৪০ টাকা, এখন ৫০ টাকা। গাজর ছিল ২০ টাকা, এখন কিনতে হচ্ছে ৩২ টাকা।
করলাসহ আরও কয়েকটা শবজির দামও বেড়েছে। রোজার জন্য লেবুসহ সব জিনিসের দাম বাড়ছে। আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি। কয়েক রোজা গেলে হয়তো দাম আবার কমতে পারে।’ এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে লিটার প্রতি পাঁচ টাকা। বোতলজাত তেলের দাম বাড়ারও গুঞ্জন চলছে। সবমিলে এবারের রমজানেও নিত্যপণ্য নিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তির কোনও লক্ষণ মিলছে না।
তবে রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য উপকমিটি করেছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। সভায় বাজারগুলোতে দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের দামের তালিকা টানিয়ে দেওয়াসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্রির সময় খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ রাখতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইউএনওরা বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেবেন।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন