শিক্ষকের বেধড়ক মারধর, আহত ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী
স্টাফ রিপোর্টার:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বেজগ্রাম দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক মাওলানা রমজান আলীর বিরুদ্ধে ৩য় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
আজ সকালে মাদ্রাসায় না জানিয়ে নানার বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষার্থী দুই দিন মাদ্রসায় অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি নজরে আসে শিক্ষক রমজান আলীর। আজ ওই শিশু শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসার পর শিক্ষক রমজান আলী ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে মারধর করেন বলে দাবী ওই শিক্ষার্থীর মায়ের। সরেজমিনে জানা যায়, আজ সোমবার সকালে প্রথম ঘন্টার ক্লাসে শিশু শিক্ষার্থী মাহি আক্তারকে বাশেঁর বেত দিয়ে মারধর করেন।
একপর্যায়ে মারধর এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। নাম না প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির কান্না ও চিৎকারে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে, কিন্তু তাতেও থামেননি ওই শিক্ষক। পরে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেসের দিকে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসা না নিয়ে প্রাইভেটে চিকিৎসা নিয়ে মেয়েটিকে বাড়িতে পৌঁছে দেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক সামসুল আলম ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
অভিভাবকরা এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি শিশুরা নিরাপদ না থাকে, তাহলে তারা কোথায় যাবে? এলাকাবাসী জানান অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলীর বিরুদ্ধে বাড়ির কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগসহ একাধিক শিক্ষার্থীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলী মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, পড়া দিতে না পারলে কয়েকজনকে মারধর করি। ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য। তিনি বলেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পশ্চিম বেজগ্রাম দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি শুনেছি, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন