সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা আমঝোল গ্রামের সড়ক: জনদুর্ভোগ চরম সীমায়
জুয়েল হোসেন,
লালমনিরহাট:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গ্রাম আমঝোল। একসময়ের ঐতিহ্যের সাক্ষী এই গ্রামের সড়ক ব্যবস্থা বর্তমানে চরম অবহেলার শিকার। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে গ্রামটির ছোট-বড় প্রায় সব কাঁচা মাটির রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমঝোল গ্রামের প্রধান রাস্তাটিসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর মাটির স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বড় বড় গর্ত ও গভীর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি মূলত এঁটেল মাটিযুক্ত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা কাদা ও জলের আস্তরণে ঢেকে গিয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে পুরো সময়জুড়ে এই কাদা ও খানাখন্দের কারণে রাস্তাটি দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়ে তেমনি বর্ষা মৌসুমের পর সেই খানাখন্দ ভয়ংকর আকার ধারণ করে, তখন মনে হয়, গ্রামটি যেন সভ্যতার যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন এক জনপদ।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সড়কের এই বেহাল দশার কারণে নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে স্থানীয়দের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি। এলাকার স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা রীতিমতো যুদ্ধজয়ের শামিল। বর্ষায় কাদা-পানির কারণে প্রায়ই তাদের পোশাক নষ্ট হয় এবং যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
হারানো ঐতিহ্য ও বর্তমান অবহেলা ভগ্নদশার এই সড়কটির রয়েছে এক সমৃদ্ধ অতীত। প্রবীণদের মতে, একসময় হাতীবান্ধা থেকে ভারতের কোচবিহার যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই ঐতিহাসিক রাস্তা। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে রাস্তাটি তার আন্তঃদেশীয় গুরুত্ব হারায়। এরপর থেকেই সড়কটি অবহেলার শিকার হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে আজকের এই নাজুক পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও দাবি দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সড়কের দুরবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন: "আমাদের এই রাস্তাটিতে সারাবছরই সমস্যা লেগে থাকে। তবে বর্ষাকালে অবস্থা এতটাই ভয়াবহ হয় যে, এই রাস্তা দিয়ে তখন পায়ে হাঁটাও সম্ভব হয় না। আমরা যেন এক বন্দি জীবন যাপন করি।
এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি, ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ মাটির রাস্তাটি দ্রুত পাকা করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন