ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘দিকদর্পণ’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সাংবাদিক এ এল কে খান জিবু

নিজেস্ব প্রতিবেদক:
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রংপুর বিভাগের প্রথম অনলাইন পত্রিকা ‘‘দিকদর্পণ” এর প্রকাশক ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল কাওছার খান জিবু ( এ.এল.কে খান জিবু)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এক মাস পবিত্র সিয়াম সাধনার পরে আনন্দের বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দুয়ারে সমাগত।
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের কাছে একটি অত্যন্ত আনন্দের দিন। এটি ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব। পবিত্র রমজান মাসের ৩০ দিন রোজা রাখার পর চাঁদ দেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। এই বিশেষ দিনে সকল মুসলিম ভাই মিলে ঈদগাহ মাঠে জড়ো হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর তারা একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আলিঙ্গন করেন। ঈদুল ফিতর শুধু আনন্দের উৎসবই নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব এবং সামাজিক সম্প্রীতিরও বার্তা বহন করে। এই দিনে ধনী-দরিদ্র সকলেই একসাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন।
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দের উৎসব। এটি শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধের বার্তাও প্রচারিত হয়।
জাতি এমন এক মুহূর্তে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে যখন দেশ ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করেছে। দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে এবং শান্তিতে-স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারছে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি শান্তি-স্বস্তির দেশ পেয়েছে এবং কথা বলার সুযোগ পেয়েছে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ও আহত হয়েছেন আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম জীবনে একটি অনন্য দিন। এক মাস সিয়াম সাধেনের পর আসে এই ঈদ। রোজা পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা নিজেদের পাপ ও পাশবিক প্রবৃত্তি দমন করে উৎসব হিসেবে পালন করে ঈদ। এ উৎসব পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা আখিরাতে নাজাত পাওয়ার প্রয়াস পায়। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তারা যে গুণাবলি ও প্রশিক্ষণ অর্জন করে ঈদ উৎসব পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা তাকে পরিপূর্ণ করে।
সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে বুকে জড়ানোর দিন, সাম্য, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা, মিলনের দিন পবিত্র ঈদ উল ফিতর। ঈদ অঙ্গীকারেরও উৎসব। আত্মিক পরিশুদ্ধির ফলে দূর হয়ে যাবে সব সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ। অন্যায়, অবিচার, ঘৃণা, বিদ্বেষ, হিংসা, হানাহানি-মানুষের সব নেতিবাচক প্রবণতার রাশ টেনে ধরবে ঈদ। ঈদ যে আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে, তার মর্মমূলে আছে শান্তি ও ভালোবাসা। পরস্পরের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হয়ে ওঠার এক মহান উপলক্ষ ঈদ।
ঈদ আগমনী সুরে বেজে চলেছে মানুষে মানুষে মিলনের এই আকুতি। তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের প্রতিবেশীদের নিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব বরণের জন্য প্রস্তুত। ঈদ উৎসব উদযাপনের জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামের বাড়ি যান। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ উল্লাস করে ঈদ উদযাপন করেন।
ঈদ শেষে সবাই আবার ফিরে নিজ কর্মস্থলে। তাই সবার জীবনে ঈদ নিয়ে আসুক সমৃদ্ধি, ভালোবাসা ও প্রেম। সবার চলার পথ হোক নিরাপদ। আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই, পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।
শুভেচ্ছান্তে
আব্দুল্লাহ্ আল কাওছার খান জিবু
প্রকাশক ও সম্পাদক
দিকদর্পন
রংপুর, বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন