তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিস্তাপাড়ের পাঁচ জেলায় শুরু হয়েছে গণশুনানি। তৃতীয় দিনের মত ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকির হায়দারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় তিস্তাপাড়ে শুরু হচ্ছে গণশুনানি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের চায়না পাওয়ার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড গণশুনানির মাধ্যমে মহাপরিকল্পনার সমীক্ষা চূড়ান্ত করবেন। ৯ মার্চ থেকে আগামী ১৩ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিন টানা চলবে এই গণশুনানি।
এতে তিস্তা পাড়ের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের লোকজন মতামত প্রদান করেন। শুনানিতে চায়না কোম্পানির প্রতিনিধিরা তিস্তা নিয়ে তাদের পূর্বের সমীক্ষা তুলে ধরেন। যেখানে সরাসরি মত-দ্বিমত প্রকাশ করছেন তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।
গণশুনানির তৃতীয় দিনে লালমনিরহাটে মুক্ত আলোচনায় কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, তা নিয়ে মতামত দেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। নদীর গভীরতা প্রায় ১০ মিটার বাড়বে। বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে ভাসাবে না গ্রামগঞ্জের জনপদ। সারা বছর নৌ চলাচলের মতো পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা যাবে। এতে আছে ১০৮ কিলোমিটার নদী খনন, নদীর দু’পাড়ে ১৭৩ কিলোমিটার তীর রক্ষা, চর খনন, নদীর দুই ধারে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ, বালু সরিয়ে কৃষিজমি উদ্ধার ও ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা এবং প্রতি বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, উত্তরের জীবনরেখা তিস্তা অববাহিকার দুই কোটি মানুষের জীবন জীবিকা বাঁচাতে সরকারের সময়ে পরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে। পাশাপাশি লালমনিরহাট অংশে অর্থনীতির জোন নির্মাণের দাবি তোলেন।
জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, লালমনিরহাট কেন্দ্রিক ভাবে তিস্তা প্রজেক্ট করতে হবে আর প্রজেক্টগুলোর একসঙ্গে করতে হবে। তা না হলে একদিকে করলে আরেকদিকে ভেঙ্গে যেতে পারে। লালমনিহাটের চার উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। এতে লালমনিহাটের বিবিধ বাসিন্দারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পাওয়ার চায়না কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার হান কুন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ওপর নির্ভর করবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তারা আশাবাদী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চায়না-বাংলাদেশ দ্রুতই ঐকমত্যে পৌঁছাবে ।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন