শনিবার; ১৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রি. Dashboard

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন দিন
সর্বশেষ :
হাতিবান্ধায় জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কু‌ড়িগ্রা‌ম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক; বাংলাদেশি যুবককে হস্তান্তর তিস্তার পাড় বাঁধনে নতুন করে ঘর বাঁধনের স্বপ্ন কুড়িগ্রামে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত কুড়িগ্রামে চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর নৌরুটে অতিরিক্ত ভাড়া রুখতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

পঞ্চগড়ে বিনা পারিশ্রমিকে প্রায় ৩০ বছর ধরে কবর খুড়েছেন মকলেছার

প্রকাশিত: রবিবার; ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি. - ০৭:৩৫ পি.এম. | দেখেছেন: ৩৪ জন।

পঞ্চগড়ে বিনা পারিশ্রমিকে প্রায় ৩০ বছর ধরে কবর খুড়েছেন মকলেছার

‎এ,কে,এম আসাদুজ্জামান রানা 

‎পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : ‎ 

 

‎প্রায় ৩০ বছর থেকে মানুষের জন্য কবর খুঁড়ে যিনি জীবন পার করেছেন, সেই মানুষটিই এখন বার্ধক্যের কারণে নিঃস্ব ও অসহায়। 

তিনি কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই মানুষের জন্য কবর খুঁড়েছেন।মানুষের মৃত্যুর খবর শুনলে ছুটে যান তিনি মরদেহের মাপ নিতে, তারপর কবর খনন করার কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই শতাধিক কবর খুরেছেন। ‎ ‎

মোঃ মোকলেছার রহমান বয়স (৬৫) গ্রাম, কাগজিয়া পাড়া, ৭ নং ওর্য়ড, পঞ্চগড় সদর। পেশায় একজন দিন মুজুর। তিনি বলেন,প্রথমে লাশ দেখে কবর পরিমাপ করি, তারপর কবর তৈরির কাজ শুরু করি। কবর খনন করার জন্য নিজের টাকায় সরঞ্জাম কিনেছি। তিনি আরো বলেন,শত্রু মিত্র আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী অথবা অপরিচিত যেই হোক না কেন মৃত্যুর খবর শোনা মাত্রই ছুটে যাই কবর খুঁড়তে। 

অনেক পরিবারের মানুষ কবর খুঁড়তে টাকা দিতে আসে কিন্তু আমি সেই টাকা নেই না, কারণ আমি মনে করি এটা একটা মহৎ ও ভাল কাজ। মোকলেছার রহমান এর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট টিনের ঘরটি জং ধরেছে। ঘরে জায়গা না থাকায়, স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে জোড়া তালি দেয়া ঘরটিতে দিন কাটে তার। 

তিনি আরো বলেন,করোনা কালে সবাই ভয়ে মরদেহ থেকে দূরে চলে যেত, কিন্তু আমি করোনা আক্রান্ত সহ মৃতদেহ কবর দিয়েছে। ৬-৭ বছর থেকে নানা রকম অসুখে ভুগছি, টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছি না, কোনরকম ভাবে দিন পার করছি, এ পর্যন্ত সরকারি ভাতা ও অনুদান সাহায্য সহযোগিতা কোন কিছুই আমি পাইনি, আমার শরীরে যতদিন শক্তি থাকবে, কবর খনন করার কাজ করে যাব। 

পঞ্চগড় পৌরসভার ৭ নং ‎ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ওয়াইসুল করীম (লিপন) বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি মোকলেসার রহমান, অনেক মানুষের কবর খুঁড়ে দেন, তিনি সাধারন একজন দিন মুজুর, বিনিময়ে কোন টাকা নেননা। ‎এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর বলেন, হতদরিদ্র এমন পরোপকারী মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানো দরকার।

তিনি আমার সঙ্গে কখনো যোগাযোগ করেননি। তিনি যোগাযোগ করলে তাকে বয়স্কভাতার ব্যবস্থা করে দেয়ার চেষ্টা করব।কিন্তু মানুষ মারা গেলে যারা ছুটে যায় তাদের কেউ খবর রাখে না, এবার কবর খুঁড়ার কাজ করার জন্য সম্মাননা প্রদান আমি অবশ্যই করবো, তিনি ৩০ বছর ধরে অনেক কবর খুঁড়েছেন, আমি তাকে শ্রদ্ধা করি।

 

 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন