মঙ্গলবার; ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি. Dashboard

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন দিন
সর্বশেষ :
রংপুরে সিজারের পর পেটে কাপড় রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম সদরে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে 'ফুয়েল কার্ড' চালু কুড়িগ্রামে আজ থেকে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি কুড়িগ্রামের শিলাবৃষ্টিতে তিস্তার চরে মরিচ-পেঁয়াজসহ ফসলের ক্ষতি

রংপুরে সিজারের পর পেটে কাপড় রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: সোমবার; ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি. - ১০:২১ পি.এম. | দেখেছেন: ৩৩ জন।

রংপুরে সিজারের পর পেটে কাপড় রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

রিয়াজুল হক সাগর,

রংপুর:

 

 

‎সিজার করার পর থেকেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। ওষুধ খেয়েও রোগীর মিলছে না সুফল। অতঃপর সিটিস্ক্যান রিপোর্টে জানা গেল, পেটে রয়েছে কাপড় জাতীয় বস্তু। 

প্রসূতির সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই দেওয়ার এ অভিযোগ উঠেছে রংপুরের এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

তবে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব‍্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা সিভিল সার্জনের। জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামে। গেল ৪১ দিন ধরে পেটের অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ‎ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবিবা জান্নাত বলেন, গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে আমার সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও জটিলতায় ভুগছি। 

এখন ওই ডাক্তারের কাছে আসলে ওনাকে বিষয়টি জানাই। উনি বলেন, আল্ট্রা করতে। আমি আল্ট্রা করে নিয়ে আসি, কিন্তু উনি দ্বায় স্বীকার করে না। আমি আবার গাইনি ডাক্তার মৌসুমী হাসানের কাছে যাই, তিনি সিটি স্ক‍্যান করে আমার শরীরে গজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‎ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, বিষয়টি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তাকে অবগত করি, কিন্তু তিনি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে অন্য চিকিৎসকের দারস্থ হলে পরামর্শ দেন সিটি স্ক্যান করতে। এতে ধরা পরে পেটে রয়েছে কাপড় জাতীয় বস্তু। 

আমরা আবার সান ডায়োগনস্টিকে অপারেশন করতে গেলে গাইনি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তার স্বামী আতিক আমাদেরকে হুমকি দেন ও ডাক্তারকেও হুমকি দেন। এখন ভয়ভীতির মাধ্যমে অসহায়ভাবে ঘুরছি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা অপেক্ষা না করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজটি বের করাই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ‎রোগীর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী ওই চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি জানতে গেলে সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে থাকা তার চেম্বারে তাকে পাওয়া যায়নি। 

তবে তার মোবাইলে ফোন দিলে একজন সহযোগী কল রিসিভ করে বলেন, ‘ম‍্যাডাম রোগী দেখছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর ফোন কেটে দেন তিনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব‍্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা সিভিল সার্জনের। 

‎এ নিয়ে রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, তদন্ত করে জানতে হবে যে দ্বায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা। যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তিনি আমাদের বরাবর একটা দরখাস্ত করলে আমরা তদন্ত করে ব‍্যবস্থা নেবো। 

আমি আপনার মুখে বিষয়টি শুনলাম। এটা খুব দুঃখজনক বিষয়। একজন সহকারী গাইনী চিকিৎসকের দ্বারা এটি কখনো কাম‍্য নয়।

 

 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন