শবে বরাতের তাৎপর্য ও গুরুত্ব
হাফেজ মোঃ জাকারিয়া হাসান
শবে বরাত (Shab-e-Barat) হলো মুসলিমদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র রাত। এটি হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত (অর্থাৎ ১৫ শাবানের রাত) পালিত হয়। ফারসি ভাষায় "শব" অর্থ রাত এবং "বরাত" অর্থ মুক্তি বা ক্ষমা, তাই এর অর্থ "মুক্তির রাত" বা "ক্ষমার রাত"। আরবিতে এটিকে লাইলাতুল বরাত বা লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান (শাবানের মধ্য রাত) বলা হয়।
শবে বরাতের তাৎপর্য ও ফজিলত:
ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন। অনেক হাদিসে উল্লেখ আছে যে, এই রাতে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করে দেন (বকরির পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন)। এটি আগামী বছরের ভাগ্য, রিজিক, আয়ু ইত্যাদি নির্ধারণের রাত বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের সারাংশ:
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূল (সা.) বলেছেন, শাবানের মধ্য রাতে আল্লাহ দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করেন, মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া।
আরেক হাদিসে: এ রাতে আল্লাহ বলেন, ক্ষমা চাওয়ার কেউ আছে কি? রিজিক চাওয়ার কেউ আছে কি? ইত্যাদি।
এই রাতের ফজিলত সহীহ ও হাসান সনদের হাদিস দিয়ে প্রমাণিত, যদিও কিছু বিশেষ নামাজ বা নির্দিষ্ট রীতি সম্পর্কিত অনেক বর্ণনা দুর্বল বা জাল।
২০২৬ সালে শবে বরাত কবে?
বাংলাদেশে ২০২৬ সালে শাবান মাস শুরু হয়েছে ২১ জানুয়ারি। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে (অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত)। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সরকারি ছুটি ছিল। (এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়, তাই বিভিন্ন দেশে তারিখ সামান্য ভিন্ন হতে পারে।)
শবে বরাতে কী কী আমল করা উচিত?
এ রাতে সাধারণ নফল ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। প্রধান আমলগুলো:
নফল নামাজ পড়া (যত বেশি সম্ভব, বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট নামাজ বাধ্যতামূলক নয়)।
কুরআন তিলাওয়াত করা।
জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।
তওবা করা এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
দান-সদকা দেওয়া (যেমন: খাবার বিতরণ, দরিদ্রদের সাহায্য)।
মৃতদের জন্য দোয়া করা।
পরদিন (১৫ শাবান) অনেকে নফল রোজা রাখেন, যা মুস্তাহাব।
কী কী বর্জন করা উচিত?
বিদআতি রীতি (যেমন: নির্দিষ্ট ৬ রাকাত নামাজ, বিশেষ সূরা পড়ে নির্দিষ্ট দোয়া, আতশবাজি, আলোকসজ্জা ইত্যাদি যা হাদিসে প্রমাণিত নয়)।
শুধু এ রাতে ইবাদত করে বাকি জীবন অবহেলা করা।
মুশরিক, হিংসুক বা বিদ্বেষ পোষণকারীদের জন্য ক্ষমা সীমিত বলে হাদিসে উল্লেখ আছে।
শবে বরাত মূলত তওবা, ক্ষমা প্রার্থনা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই রাতের বরকত দান করুন এবং ক্ষমা করুন।
আমীন।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন